লোভী বানর আর মিষ্টি আমের গাছ
লোভী বানর আর মিষ্টি আমের গাছঃ
এক ছিল জঙ্গল। সেই জঙ্গলে একটা বিরাট আম গাছ। গাছটা এত মিষ্টি আম দেয় যে, তার গন্ধে পুরো জঙ্গল ম ম করে! আমগুলো লাল-হলুদ, রসে টইটুম্বুর। কিন্তু গাছটা খুব কড়া। সে বলে, “যে একটা আম খাবে, সে একটা কাজ করবে আমার জন্য। না করলে আম দেব না!
মেজিক্যাল আম গাছ
জঙ্গলের সব প্রাণী এসে চেষ্টা করে। হাতি এসে বলে, “আমি তো বড়, একটা আম দাও!” গাছ বলে, “আচ্ছা, তুমি আমার গোড়ার কাছে জমা হওয়া পাতাগুলো পরিষ্কার করো।” হাতি সুড়সুড় করে পাতা সরিয়ে দিল, একটা আম পেল, খেয়ে চলে গেল। শিয়াল এলো। চোখ টিপে বলে, “ভাই গাছ, আমি তো চালাক, আমাকে একটা আম দাও।” গাছ হেসে বলে, “ঠিক আছে, তুমি আমার চারপাশে গর্ত খুঁড়ে পানি জমিয়ে দাও।” শিয়াল খুঁড়তে খুঁড়তে ক্লান্ত, কিন্তু একটা আম পেয়ে লাফাতে লাফাতে চলে গেল।
লোভী বানর
এবার এলো — লোভী বানর নাম বাঁটুল! বাঁটুলের লেজটা সবসময় নড়ে, চোখ দুটো আম দেখলেই চকচক করে। সে গাছের কাছে এসে লাফ দিয়ে বলে, “এই গাছ দাদা! আমাকে দশটা আম দাও! আমি তো বানর, লাফাতে পারি, গাছে উঠতে পারি!” গাছ হেসে বলে, “বাঁটুল, লোভ করলে তো চলবে না। একটা আমের বদলে একটা কাজ। তুমি কী করবে?” বাঁটুল ভাবল, “আহা, একটা কাজ তো সহজ! আমি তো সব পারি!” সে বলে, “আমি তোমার ডালে ঝুলে দোল খাব, মজা করব!” গাছ বলে, “আচ্ছা, তাই করো। কিন্তু একটা আম খাবে, একটা কাজ করবে।”
লোভী বানরের শিক্ষা
বাঁটুল লাফ দিয়ে ডালে উঠল। একটা আম ছিঁড়ে খেয়ে ফেলল। তারপর আরেকটা... আরেকটা... খেতে খেতে সে ভুলে গেল কাজ করার কথা! সে শুধু খাচ্ছে আর লাফাচ্ছে। গাছ বলে, “বাঁটুল, কাজ করো!” বাঁটুল বলে, “আরে দাদা, পরে করব! এখন তো আম খাচ্ছি!” সে আরও খেল। পেট ভরে গেল, কিন্তু লোভ কমল না। সে ভাবল, “আরও খাই, কেউ দেখবে না!”
হঠাৎ ডালটা ভারী হয়ে গেল। বাঁটুলের পেট ফুলে টমটম করছে। সে লাফ দিতে গিয়ে... ড্যাং! ডাল ভেঙে পড়ল! বাঁটুল লাফ দিয়ে নিচে পড়ল, কিন্তু পড়ল একটা কাঁটাতারের ঝোপে! “আউচ আউচ!” চিৎকার করে উঠল। সব প্রাণী এসে হাসতে লাগল। হাতি বলে, “দেখ বাঁটুল, লোভ করলে এমনই হয়!” শিয়াল হেসে বলে, “একটা আম খেলে একটা কাজ, কিন্তু তুই তো সব আম খেয়ে ফেললি!” গাছটা দুঃখ করে বলে,
“বাঁটুল, আমি তোমাকে শেখাতে চেয়েছিলাম — লোভ করলে নিজেরই ক্ষতি হয়। যা দরকার তার চেয়ে বেশি চাইলে হাতে কিছু থাকে না, বরং আঘাত পাওয়া যায়।”
বাঁটুল লজ্জায় লাল হয়ে গেল। সে বলে, “দাদা গাছ, আমি ভুল করেছি। এবার থেকে লোভ করব না। আমি তোমার সব পাতা পরিষ্কার করে দেব, পানি জমিয়ে দেব... শুধু একটা আম দাও!” গাছ হেসে একটা সুন্দর আম দিল। বাঁটুল সেটা খেয়ে বলে, “আহা, এই একটাই কত মিষ্টি! বেশি চাইলে মজাটাই নষ্ট হয়ে যায়!” তারপর থেকে বাঁটুল আর লোভ করে না। সে সবাইকে বলে, “ভাইসব, যা দরকার তাই নাও, বেশি চাইলে কাঁটা খেতে হয়!”
গল্পের শিক্ষা:
লোভ মানুষকে (বা বানরকে!) অন্ধ করে দেয়। যা আছে তাতে খুশি থাকলে জীবন মিষ্টি লাগে, আর লোভ করলে শেষে আউচ!
পার্ট ১ – শুরু (পরিচয় + সমস্যার শুরু)
“ একটা সবুজ জঙ্গলে ছিল একটা বিরাট আম গাছ। গাছটা খুব দয়ালু, কিন্তু একটা নিয়ম রেখেছে: ‘যে একটা আম খাবে, সে আমার জন্য একটা ছোট্ট কাজ করবে!’ হাতি এসে পাতা পরিষ্কার করে একটা আম নিল। শিয়াল এসে গর্ত খুঁড়ে পানি জমিয়ে একটা আম পেল। সবাই খুশি! কিন্তু হঠাৎ লাফ দিয়ে এলো আমাদের দুষ্টু বানর বাঁটুল! তার চোখ আম দেখে চকচক করছে। সে গাছকে বলল, ‘দাদা, আমাকে অনেক আম দাও!’ গাছ হেসে বলল, ‘আচ্ছা, কিন্তু একটা আম = একটা কাজ!’ বাঁটুল কি মানবে নাকি লোভ করবে? দেখো তো!”
পার্ট ২ – মাঝখান (লোভ + দুষ্টুমি)
“ বাঁটুল লাফ দিয়ে ডালে উঠল। প্রথম আমটা খেয়ে বলল, ‘আহা কী মিষ্টি!’ তারপর আরেকটা… আরেকটা… আরও একটা! খেতে খেতে সে পুরোপুরি ভুলে গেল কাজ করার কথা! পেট ফুলে টমটম, মুখে আমের রস, লেজ নাড়ছে খুশিতে। গাছ ডাকল, ‘বাঁটুল, কাজ করো!’ কিন্তু বাঁটুল হেসে বলল, ‘পরে করব দাদা, এখন তো আম খাচ্ছি!’ ডালটা ক্রমশ নিচের দিকে নুয়ে পড়ছে… ক্র্যাক… ক্র্যাক… ওরে বাবা! কী হবে এখন? বাঁটুলের লোভ কি তাকে বিপদে ফেলবে?”
পার্ট ৩ – শেষ (পতন + শিক্ষা + পরিবর্তন)
“হঠাৎ — ড্যাং! ডাল ভেঙে পড়ল! বাঁটুল লাফ দিয়ে নিচে… আর পড়ল একটা কাঁটাভরা ঝোপে! ‘আউচ! আউচ!’ চিৎকার করে উঠল। হাতি, শিয়াল সবাই এসে হাসতে লাগল। গাছটা দুঃখ করে বলল, ‘বাঁটুল, লোভ করলে নিজেরই ক্ষতি হয়। যা দরকার তাই নিলে জীবন মিষ্টি লাগে, বেশি চাইলে কাঁটা খেতে হয়।’ বাঁটুল লজ্জায় লাল। সে বলল, ‘দাদা, আমি আর লোভ করব না। এবার থেকে যা দরকার তাই নেব।’ গাছ হেসে তাকে একটা সুন্দর আম দিল। বাঁটুল বুঝল — খুশি থাকার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো লোভ না করা! তোমরা কী বলো, বাঁটুলের মতো লোভ করবে, নাকি যা আছে তাতে খুশি থাকবে?”
লেবেলসমূহ: শিক্ষামূলক গল্প



0টি মন্তব্য:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
এতে সদস্যতা মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন [Atom]
<< হোম