গল্পের শিরোনাম: নীরব ঘড়ির শব্দ
গল্পের শিরোনাম: নীরব ঘড়ির শব্দ
এক রাতে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেল। পুরো ঘর অন্ধকার। আরিফ আলমারি থেকে মোমবাতি বের করতে গিয়ে পুরোনো ডায়েরিটা চোখে পড়ল। বহু বছর ধরে কেউ ছোঁয়নি ওটা। ধুলো জমে পাতাগুলো হলদেটে হয়ে গেছে।
প্রথম পাতায় লেখা—
“সময়ই মানুষের সবচেয়ে বড় শিক্ষক। সে কথা বলে না, কিন্তু শিখিয়ে দেয়।”
আরিফ চমকে উঠল। পরের পাতাগুলোতে বাবার হাতের লেখা—কখনো সংসারের হিসাব, কখনো গ্রামের মানুষের কথা, কখনো নিজের ভুল স্বীকার।
“আজ আরিফ আমার কাছে খেলনা চাইছিল। আমি দিতে পারিনি। ও হয়তো ভাবছে, আমি কৃপণ। কিন্তু একদিন বুঝবে—সব চাওয়াই পূরণ করা যায় না, তবে সব চাওয়াকে সম্মান করা যায়।”
আরিফের চোখ ভিজে উঠল। বাবার সেই দিনের কথা তার আবছা মনে পড়ল। সে সত্যিই বাবাকে তখন ভুল বুঝেছিল।
ডায়েরির শেষ দিকে এসে আরিফ থেমে গেল। সেখানে লেখা—
“এই ঘড়িটা আমি রেখে যাচ্ছি। একদিন আরিফ বুঝবে—সময় থামে না, কিন্তু মানুষ চাইলে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সৎ থাকতে পারে।”
সেই রাতেই আরিফ সিদ্ধান্ত নিল, সে তার জীবনে কিছু বদলাবে।
পরদিন বাজারে গিয়ে সে দেখল, এক বৃদ্ধ মানুষ ভুল করে বেশি টাকা দিয়ে চলে যাচ্ছেন। আগে হলে আরিফ হয়তো চুপ করে থাকত। কিন্তু আজ সে ডেকে বলল,
“চাচা, আপনি বেশি টাকা দিয়েছেন।”
বৃদ্ধ অবাক হয়ে তাকালেন। বললেন,
“আজকাল এমন মানুষ পাওয়া যায় নাকি?
দিন যেতে লাগল। আরিফ আর ছোট ছোট অসততা করে না। ওজনে কম দেয় না, মিথ্যা কথা বলে না। প্রথমদিকে লাভ কম হলো,
কিন্তু ধীরে ধীরে মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করল।
একদিন স্কুল থেকে ফিরে নাদিয়া বলল,
“আব্বু, আজ ম্যাডাম বলেছে—সৎ মানুষ হওয়াই সবচেয়ে বড় শিক্ষা।”
আরিফ চুপ করে রইল। বুকের ভেতর কোথাও একটা শান্তি অনুভব করল।
সেদিন রাতে সে আবার ডায়েরি খুলল। শেষ পাতার নিচে খালি জায়গায় নিজে লিখল—
“বাবা, আজ বুঝেছি। ঘড়ির শব্দ শুধু সময় জানায় না, বিবেককেও জাগিয়ে তোলে।”
ঘড়ির কাঁটা তখন ঠিকই চলছিল। নীরব, কিন্তু দৃঢ়।
আরিফ জানত—সময় তাকে ধনী বানাবে কি না, সে জানে না। কিন্তু একজন ভালো মানুষ বানাতে সে শুরু করেছে। আর সেটাই ছিল বাবার সবচেয়ে বড় শিক্ষা।
📌 Description
নীরবতার মাঝেও কিছু শব্দ থাকে, যা আমাদের জীবন বদলে দেয়।
“নীরব ঘড়ির শব্দ” একটি হৃদয়ছোঁয়া শিক্ষামূলক গল্প—যেখানে সময়, স্মৃতি আর সততার গভীর সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।
এই গল্পে আমরা দেখি, গ্রামের সাধারণ মানুষ আরিফের জীবনের নীরব সংগ্রাম। সংসারের দায়িত্ব, দুশ্চিন্তা আর বাস্তবতার ভিড়ে সে প্রায় ভুলে যেতে বসেছিল বাবার শেখানো মূল্যবোধ। কিন্তু একটি পুরোনো ঘড়ি আর বাবার রেখে যাওয়া ডায়েরি তার জীবনে এনে দেয় নতুন উপলব্ধি। সময় যে শুধু চলে না, সে মানুষকে সঠিক পথও দেখায়—এই সত্যই গল্পটির মূল বার্তা।
গল্পটি আমাদের শেখায়—সততা কখনো লোকসান নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে সেটাই সবচেয়ে বড় লাভ। ছোট ছোট সিদ্ধান্তই একদিন বড় পরিবর্তনের জন্ম দেয়। পরিবার, বিশ্বাস ও নৈতিকতার গুরুত্ব এখানে সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে, যা সব বয়সের পাঠকের জন্য উপযোগী।
যারা শিক্ষামূলক গল্প, মানবিক জীবনকথা, কিংবা বাস্তব জীবনের অনুপ্রেরণামূলক লেখা পড়তে ভালোবাসেন—এই গল্পটি তাদের জন্য। সময়ের মূল্য বুঝতে, নিজের বিবেকের কণ্ঠ শুনতে এবং একজন ভালো মানুষ হওয়ার অনুপ্রেরণা পেতে এই গল্পটি অবশ্যই পড়ুন।অর ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন।ীরংক ঃ https://www.youtube.com/@mohidkhan-g6g






