গল্পের শিরোনাম: হারানো সময়ের হিসাব

গল্পের শিরোনাম: হারানো সময়ের হিসাব 

 গ্রামের শেষ প্রান্তে একটি পুরোনো টিনের ঘর। ঘরের সামনে ছোট একটি আমগাছ, আর তার নিচে বসে থাকতেন আবদুল করিম। বয়স সত্তরের কাছাকাছি। একসময় তিনি খুব ব্যস্ত মানুষ ছিলেন, কিন্তু এখন সময়ই যেন তাঁর সবচেয়ে বড় সঙ্গী। প্রতিদিন সকালে করিম সাহেব ফজরের নামাজ শেষে আমগাছের নিচে বসে পড়তেন। হাতে থাকত একটি পুরোনো ডায়েরি। ডায়েরির পাতাগুলো হলুদ হয়ে গেছে, কিন্তু তাতে লেখা স্মৃতিগুলো এখনও টাটকা।
এই ডায়েরিতে তিনি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলো লিখে রেখেছিলেন—কবে কোন ভুল করেছিলেন, কবে কোন সুযোগ হাতছাড়া হয়েছিল, আর কবে কোন ভালো সিদ্ধান্ত তাঁর জীবন বদলে দিয়েছিল। একদিন তাঁর নাতি আরিফ ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে এলো। আরিফ শহরে পড়ে, মোবাইল আর ভিডিওতেই তার বেশিরভাগ সময় কাটে। দাদুকে প্রতিদিন ডায়েরি লিখতে দেখে সে একদিন জিজ্ঞেস করল, — 



দাদু, আপনি এত কিছু লিখে কী করেন? এখন তো সব মোবাইলেই থাকে। করিম সাহেব মৃদু হেসে বললেন, — মোবাইলে সময় থাকে, কিন্তু হিসাব থাকে না বাবা। আরিফ কিছুটা অবাক হলো। দাদু বলতে লাগলেন— ছোটবেলায় তিনি খুব গরিব ছিলেন। পড়াশোনা ভালো করতেন, কিন্তু সময়ের মূল্য বোঝেননি। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, অকারণে সময় নষ্ট—এসব করতে করতেই জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বছর কেটে গিয়েছিল। একবার একটি ভালো চাকরির সুযোগ এসেছিল। ইন্টারভিউয়ের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় পেয়েছিলেন অনেক, কিন্তু ভেবেছিলেন, “এখনো সময় আছে।” শেষমেশ সেই সুযোগ আর ধরা দেয়নি। করিম সাহেব একটু থামলেন। আমগাছের পাতা নড়ছিল হালকা বাতাসে। — সেই দিনটা আমি ডায়েরিতে লিখেছিলাম, বললেন তিনি। কারণ কিছু ভুল ভুলে গেলে আবার হয়। লিখে রাখলে মনে থাকে। আরিফ মনোযোগ দিয়ে শুনছিল। দাদু আবার বলতে শুরু করলেন— পরে যখন সংসার হলো, তখন বুঝলেন সময় আর নিজের থাকে না। বাবা-মা, স্ত্রী, সন্তান—সবার দায়িত্ব একসাথে এসে পড়ে। তখন তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, যত কম সময়ই থাকুক, সেটাকে ঠিকভাবে ব্যবহার করবেন। তিনি নিয়ম করে পড়াশোনা করলেন, নিজেকে দক্ষ করলেন। ধীরে ধীরে জীবনে স্থিরতা এলো। বড় ধনী না হলেও সম্মানের জীবন পেলেন। একদিন তাঁর বাবা বলেছিলেন, — সময়কে যারা সম্মান করে, সময়ও তাদের সম্মান দেয়। এই কথাটি করিম সাহেব জীবনের মূলমন্ত্র বানিয়ে নিয়েছিলেন। আরিফ একটু চিন্তিত হয়ে বলল, — দাদু, আমি তো প্রায়ই সময় নষ্ট করি। ভিডিও দেখি, গেম খেলি। করিম সাহেব হাসলেন। — সময় নষ্ট করা পাপ না বাবা, কিন্তু সময়কে শুধু নষ্ট করাই যদি অভ্যাস হয়, তখন বিপদ। তিনি ডায়েরির একটি পাতা খুলে দেখালেন। সেখানে লেখা ছিল— “প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা নিজের ভবিষ্যতের জন্য।” — এই এক ঘণ্টাই আমাকে আজ এখানে এনে বসিয়েছে, বললেন তিনি। সন্ধ্যা নেমে আসছিল। গ্রামের আকাশে পাখিরা ফিরছিল নীড়ে। আরিফ চুপচাপ দাদুর পাশে বসে রইল। মোবাইলটা পকেটে ঢুকিয়ে দিল। সে বুঝতে পারছিল, সময় আসলে চলে যায় না—চলে যায় সুযোগ। সেদিন রাতে আরিফ নিজেও একটি ছোট খাতায় লিখল—



     “আজ থেকে সময়ের হিসাব রাখব।” আমগাছের নিচে বসে থাকা বৃদ্ধ মানুষটি সন্তুষ্ট মনে আকাশের দিকে তাকালেন। হয়তো তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন আজই হলো—একটি প্রজন্মকে সময়ের মূল্য বুঝিয়ে দেওয়া।

 শিক্ষা: 👉 সময়ই জীবনের সবচেয়ে বড় পুঁজি। একে অবহেলা করলে জীবনই হিসাব চাইবে।


🌟  Description (বাংলা)

আজকের গল্পটি আমাদের শেখায় সময়ের মূল্য ও দায়িত্ববোধের গুরুত্ব। গল্পে আমরা দেখি আরিফ নামের ১৬ বছর বয়সী একজন ছেলে কীভাবে তার ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত হয়। দাদুর জীবনকথা ও ডায়েরি থেকে তিনি শিখতে থাকে যে, সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগানো এবং দায়িত্ববোধ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গল্পটি ছোট গ্রামীণ পরিবেশে সেট করা, যেখানে দাদু তার ডায়েরি নিয়ে বসে থাকে, আর আরিফ ধীরে ধীরে বুঝতে পারে নিজের সময় ও সুযোগকে মূল্য দিতে হবে।

এই গল্পটি শিক্ষামূলক, নৈতিক এবং প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণামূলক। এটি যুবকরা, শিক্ষার্থীরা এবং যেকোনো বয়সের পাঠকের জন্য উপযোগী। সময়ের গুরুত্ব, দায়িত্ববোধ এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতির বার্তা এই গল্পের মূল শিক্ষা।

ব্লগারে এই গল্পটি পড়া ও শেয়ার করা যেতে পারে। ভিডিও বা শর্টস বানানোর জন্যও এটি পারফেক্ট, যেখানে প্রতিটি সিনে আলাদা বার্তা তুলে ধরা যায়


 

 Description

This story teaches the importance of time management and responsibility. It follows Arif, a 16-year-old boy, who begins to understand the value of his future through the wisdom of his grandfather. Arif observes his grandfather writing in an old diary and learns that making the most of every moment and being responsible are essential for a meaningful life.

Set in a peaceful rural village, the story emphasizes family values, life lessons, and the significance of planning for the future. Through Arif’s worries and eventual realization, readers of all ages can learn how to use time wisely and cherish opportunities.

This story is inspirational and educational, perfect for teenagers, students, and anyone who wants to reflect on life’s priorities. It can also be adapted into videos or shorts, with each scene highlighting key messages about time, responsibility, and personal growth.

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

0103 Bangla Kids Rymes/Bangla-English Learning Rhyme Song শিশুদের শিক্ষামূলক গান#cartoon

My portfolio plan for sales (T Shirt)

🌍 ডিসকভারি গল্প: "ছোট্ট রাহাতের আবিষ্কারের যাত্রা"